Featured Posts

[Travel][feat1]

গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব

8:41 AM

গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব

গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব:

গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব



গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার এই তিনটি নদী গঠিত পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপের অংশবিশেষ বঙ্গোপসাগরের কোণঘেঁষা সুন্দরবন অঞ্চলটি হল নানান ধরনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বাস্তুভূমি যা বাংলাদেশের ছটি জেলা পশ্চিমবঙ্গের দুটি জেলার  ( উত্তর দক্ষিণ ২৪ পরগণা ) প্রায় ১৩০০ বর্গ কিলোমিটারের অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত বর্তমানে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন সুন্দরবনের আয়তন , ফুল , গাছ , পাখি , উদ্ভিদ প্রাণীর বৈচিত্র্য এবং জনবসতির ওপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে যেমন

. তাপমাত্রার বৃদ্ধিঃ- 

পৃথিবীব্যাপী বায়ুমণ্ডলের উষ্ণায়নের ফলে উত্তর দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের চিরতুষার-বৃত অঞ্চলে পুরু বরফের স্তর গলে যাচ্ছে এবং একের পর এক হিমশৈল ভেসে আসছে উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলেও তুষার গলা জলের প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন  হিমবাহ পিছিয়ে যাচ্ছে ১৮৮০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ভূপৃষ্ঠ সমুদ্রপৃষ্ঠের গর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে .৮৫ ডিগ্রি  সেলসিয়াস সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি হল জার অনিবার্য পরিণতি

. সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধিঃ 

হিমবাহ গলা জলরাশি সমুদ্রে জলের যোগান বৃদ্ধি করছে , জার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ধীরগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্র বিজ্ঞানীদের পরিমাপ অনুযায়ী ১৯১৩ সাল থেকে সমুদ্রপৃষ্ঠের গর উচ্চতার বৃদ্ধি ঘটেছে +. মিলিমিটার একবিংশ শতাব্দীতে বৃদ্ধির এই হার আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা আছে

. ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধিঃ

পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫১ থেকে ২০১০ সালের সময় সীমার মধ্যে সুন্দরবনের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে সমুদ্র সমতলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির দরুন সাইক্লোনের পরিমাণ তীব্রতা মারাত্মক ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে

 যদি গ্রীন হাউস  এফেক্ট সম্বন্ধে জানতে চান তাহলে এখানে ক্লিক করুন


গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশে অবস্থিত সুন্দরবন অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তার অনেকাংশেই সমুদ্রের জলে ডুবে যায় বহু বদ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত সুন্দরবন অঞ্চলের অন্তত তিনটি দ্বিপে বঙ্গোপসাগরের জলস্তর বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পরেছে , যেমন


. লোহাচড়া দ্বীপ – 

বেশিরভাগ সমুদ্র বিজ্ঞানীদের ধারণা সুন্দরবন অঞ্চলের লোহাচড়া দ্বীপ হল পৃথিবীর প্রথম জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ যা সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধির জন্য নিমজ্জিত হয়েছে বেশ কয়েক বছর ধরে ক্ষয়ের ফলে সঙ্কুচিত হতে হতে ১৯৯৫ সাল নাগাদ দ্বীপটি জলরাশির নিচে বিলীন হয় ইদানীং উপগ্রহ প্রেরিত দূরসংবেদী চিত্র দেখে অনেক বিজ্ঞানী মনে করছেন ২০০৭ এবং ২০০৯ সালের পর থেকে লোহাচড়ার পুনরুত্থান ঘটছে এবং ভাটার সময় সেখানে অনুচ্চ চর জাগছে

. নিউমুর দ্বীপ

বঙ্গোপসাগরের একটি জনবসতিহীন ছোট দ্বীপ হল নিউমুর যা বাংলাদেশের তালপট্টি নামে পরিচিত ছিল ১৯৭০  ভোলা ঘূর্ণিঝড়ের পরে সমুদ্রের বুকে এই দ্বীপটি জেগে উঠেছিল ২০১০ সাল নাগাদ এই দ্বীপটি আবার নিমজ্জিত হয় , সমুদ্র জলস্তর বৃদ্ধি হল জার মূল কারণ মৌসুমি বর্ষণের চরিত্র পরিবর্তন এবং সমুদ্র সন্নিহিত এলাকার ক্ষয়কেও অনেকে নিউমুর দ্বীপের নিমজ্জিত হওয়ার অপ্রধান কারণ হিসাবে দায়ী করেন

৩. ঘোড়ামারা দ্বীপ 

হুগলী নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটির আয়তন ১৯৭৫ সালে ছিল .৫১ বর্গ কিমি ২০১২ সালে যা সঙ্কুচিত হয়ে দাড়ায় .৪৩ বর্গ কিমি মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধিকেই এর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে বিজ্ঞানীদের ধারণা এই অঞ্চলে বার্ষিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের জলস্তর  বৃদ্ধি পেয়েছে  




গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব গঙ্গা-পদ্মা-মেঘনার বদ্বীপের সক্রিয় অংশের ( সুন্দরবনের ) পৃথিবীব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব Reviewed by Admin on 8:41 AM Rating: 5
Powered by Blogger.